#108 গুরু, গম্ভীর, ঘটনা!

এই লক্ষীছাড়া কাব্য ফেলেছি ছেড়ে,
চৌকাঠ করেছি পার, ঘরের দরজা বন্ধ করেছি,
পথটাকে সঙ্গী করে, হয়ে যাযাবর,
প্রেমের ছন্দে লীন, ভাবে মত্ত-বিভোর,
হাসি দুর্বোধ কিন্তু এতেই আছে শান্তি আমার।

বয়স-কালে আরামকেদারায় বসে দেখেছি
ব্যাটা হতভাগা চাঁদটাও পূর্ণিমার রাতে একলা ঘোরে!
সুখ-দুঃখের গল্প ভাগ করে নেওয়ার মাঝে
ওই চাতালটাতে দুজনে বসে, একটু দীর্ঘশ্বাস,
আর মন খারাপের মাঝখানে সিগারেট-টাতে টান।

আকাশে বারবার তার পথ আটকে দাঁড়ায়
ওই ভট্টচাযদের বাড়ির নারকেল গাছ,
দুষ্টু বাতাসটা টিটকিরি মেরে ছুট্টে পালায়
ইউক্যালিপ্টাস গাছের পাতাগুলো সব দেখে হেসেই ফেলে,
প্রহর ঘুরলে চাঁদ বলে এবার তারও ঘুমোতে যাবার পালা।

আমার পথটাও বিশ্রাম চায় বাড়ির দোরগোড়ায় এসে
এত ঘুরিয়ে সেও আজ ক্লান্ত, পিঠ থেকে নামাতে চায় এবার,
কীর্তনের সুর ভেসে আসে দূর থেকে, পাখিদের কল্লোলের সাথে ডানায় চেপে,
মায়ার খেলার মাঝে ছায়ার লুকোচুরি,
মাথার পাকা সাদা চুলের গোছা নেড়ে আমিও বিজ্ঞ হবার ভান করি।

রাতটা শেষ হয়ে আসে, স্বপ্নের দেশ থেকে বাস্তবে এসে পড়তে হয় চিৎকারে,
ঘুম ভাঙলে মা বলে, “কিরে! অফিস যাবিনা আজ নাকি?”
আমি কাঁধে গামছা ফেলে বাথরুমের দিকে তাক করি,
রাতটা ছিল শান্তির, আমার নিজের মত করে কাটানো সময়,
শুধু এই দিনের বেলা যত রাজ্যের বিরক্তি এসে জীবনে হাজির হয়।
*************