#81 মন খারাপের চিঠি

আজকে একটা বিশেষ দিন। বিশেষ কারণ এই দিনে পাঁচ বছর পূর্ণ হত। ভেবে রেখেছিলাম যে আজকের দিনটা ঘটা করে পালন করব, নতজানু হব, সারাজীবনের অঙ্গীকারটা সম্মান করব।
কিন্তু কিছু জিনিস আছে যা আমরা যত বেশি করে চাই তত আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। জীবনের ওই ভালো থাকার ইচ্ছেগুলো মরীচিকাময়!

আজকের আমার মনের অবস্থাটা বড্ড শোচনীয় আর দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন। তাই আজ একটা লেখা দিলাম, হয়তো নিজের ভার একটু কমানোর জন্য।

এটা লিখেছিলাম নাগপুর থেকে ফেরার পথে। ব্যাথা চেপে রাখার কষ্ট আর হেরে যাবার ভয় নিয়ে, সমস্ত স্বপ্নের ভূতেদের থেকে পালাবার জন্য। তখন বুঝেছি যে বাঁচার একটাই পথ, চোখ বুজে থাকা।

জানালার বাইরে তখন জলের ঝাপটা, প্লেন ছুটে চলেছে রানওয়ে ধরে, আকাশকে কাছে পেতে।

আর আমি?
– তখন অনেক দূরে, ফেলে আসা সময়ে, আর কখনো না হওয়া ভবিষ্যতের মাঝে আটকে।


বৃষ্টিটা আবার ভেজায়
দরজার বাইরে মাত্র কয়েক পা,
সিঁড়ি ধরে উঠি, মাথা নিচু করে
ভয় করে, হারিয়ে ফেলব সব
যেমন আগে হারিয়েছে একবার।

সেবার ছিলাম অনেক দূরে
তোমার ওপরে অনেক ভরসা করে
মনে ছিল তুমি পারবে রাখতে
ভালোবাসায় ভরে, কষ্ট ভুলে,
জীবনের অংশ ভেবে।

যখন এলাম ফিরে, শীতের রাতে
তোমার কান্না শুনে ভেঙেছে ঘুম
দেখি, নেই সব,
ভেসে গেছে এক বৃষ্টির জলে
তুমিও গেছ অনেক দূরে, অন্ধকারের পারে!

অনেক ভুল ছিল মাথার উপরে,
সমস্ত ঈর্ষা জ্বালিয়ে, যন্ত্রণা থেকে
ভালবেসেছিলাম নিজের মত করে,
সরিয়ে দেওয়া, এখনও একা,
থাকতে পারিনি তোমায় ছেড়ে।

সূর্য আজও দেখি, রাতের অস্তাচলে
গল্প সত্যি না হবার প্রতিশ্রুতি শুনে
তোমার প্রতিচ্ছবির আকর্ষন রুখে,
শুধু অনেক কিছুই মিলল না এ জীবনে
আমার আক্ষেপ বাঁধি দুচোখ বুজে।

বাতাস ছুঁয়ে, অনেকদিন পরে
এলাম মনের খোঁজ নিতে
কেমন আছে সে একাকী, গভীরে তলিয়ে,
প্লেনের জানালার ধারে বসে
মেঘ দেখে, চোখের বৃষ্টিতে ভিজে।
*************

Advertisements